করোনায় কাবু বিশ্ব, স্বস্তিতে শ্বাস নিচ্ছে চীন

24 24

Sangbad

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২১

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু বিশ্ব। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তিতে শ্বাস নিচ্ছে অদৃশ্য এই ভয়ানক ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল চীন। দেশটিতে করোনা শনাক্তের হার একেবারে তলানিতে। ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়ও নিচের দিকে চীনের নাম।

চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারির ১৪ তারিখে। এর আট মাস আগে মে তে দেশটিতে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই হিসেবে গত ১১ মাসে দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন মাত্র দুই জন। গত বছরের ১১ জানুয়ারি দেশটিতে করোনায় প্রথম মৃত্যু ঘটনা ঘটেছিল।

চীনে গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্তের দিক দিয়ে বিশ্বে চীনের অবস্থান ১৫৫ তম। এই সময়ে দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯২ জনের। এর আগের সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছিল ৮৩ জনের। এছাড়া গত জানুয়ারির পর থেকে দেশটিতে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেনি।

একদিনে চীনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ জনের শরীরে। এ নিয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯০ হাজার ৫৭৫ জনের। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জনের।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বাজার থেকে প্রথম করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম যে ব্যক্তি মারা যান, ওই মার্কেটে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

৬১ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি যখন মারা যান, তখনো এই রোগের নাম নির্দিষ্ট করা হয়নি। চীনের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘অপরিচিত ধরনের নিউমোনিয়া’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, চীন থেকে গোটা বিশ্বে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলেও উল্লেখ করেন।

তবে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন। দেশটির দাবি, করোনাভাইরাসের উত্স নির্দিষ্ট কোনো একটি এলাকা নয়; একাধিক উত্স থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাসের উৎসের সন্ধানে গত জানুয়ারিতে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান পরিদর্শন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল। পরিদর্শন শেষে দশ জনের ওই প্রতিনিধি দল জানায়, উহান শহরের ল্যাব থেকে করোনা ছড়ানোর বিষয়ে যে তথ্য ছিল, তার কোনো ভিত্তি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাঠানো টিমের প্রধান পিটার বেন এমবার্ক বলেন, চীনের উহান শহরের ল্যাব থেকে ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি অতিমাত্রায় অসম্ভব। ভাইরাসের তথ্য উৎস শনাক্তে আরো বেশি কাজ করা প্রয়োজন।

করোনায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ২৮ লাখ মানুষ।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ৩১ লাখ ১২ হাজার ৭৫২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ কোটি ৭০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১২ কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৮২০ জন।

শুরুতে কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন। তবে করোনার প্রকোপ কমার সঙ্গে সঙ্গে বিধি নিষেধ শিথিল করা হয়। করোনা যেসব অঞ্চলে বেশি সেসব অঞ্চলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়। তবে বাধ্যতামূলক করা হয় কোয়ারেন্টাইন। সব মিলিয়ে বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক চীন। সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরে এসেছে।